কবিতা : আমাদের বিবেকানন্দ, রচয়িতা : সোহম দে প্রয়াস।

যুগে যুগে জগতের পরিত্রাণে আবির্ভূত হন মহাপুরুষগণ।
ব্রহ্মচর্যের বলে বলীয়ান স্বামী বিবেকানন্দ তাঁহাদেরই একজন।
প্রজ্ঞায় ব্রাহ্মণ, শৌর্যে ক্ষত্রিয়, আর পরিশ্রমে তিনি শুদ্র।
পাহাড়সম বাধা-বিপত্তিও তাঁহার সম্মুখে মনে হয় অতি ক্ষুদ্র।
আর্তের ক্রন্দন শুনিয়া কর্ণে ছাড়িলেন নিজ পরিবার।
আপন স্কন্ধে তুলিয়া লইলেন দেশমাতৃকার ভার।
যুব সমাজকে দেখাইলেন তিনি স্বাধীনতা পাওয়ার দিশা।
পদদলিত জাতির অন্তরে জাগাইলেন মুক্তিলাভের আশা।
দৃঢ় চিত্তে বেদান্তের শিক্ষা তিনি ছড়াইলেন সারাবিশ্বে।
অকম্পিত হস্তে সনাতনের ধ্বজা তুলিয়া ধরিলেন শীর্ষে।
হে যুগনায়ক!
কতই না সৌভাগ্য তোমার, পেলে শ্রীরামকৃষ্ণেরে গুরুরূপে।
তিনি রাখিলেন তাঁহার শীতল চরণ তব তপ্ত বুকে।
শিকাগোতে শুনিয়া তোমার বাণী, মুগ্ধ হইলেন অসংখ্য নর-নারী।
তোমার রচিত অমৃতময় গীতিতে আজও নয়নে আসে বারি।
তোমার দর্শানো পথ আমি অনুসরণ করি আঁখি বুজি।
তোমার বাণী মান্য করিয়া জীবের মাঝেই ঈশ্বরকে খুঁজি।
উদার হৃদয়ে করিলে তুমি জগতের হিতসাধন।
তব শৌর্য হেরিয়া স্তম্ভিত হয় ঘূর্ণায়মান হুতাশন।
আপন জীবন জলাঞ্জলি দিয়া গাহিলে মানবতার গান।
তাই তো তুমি অদ্বিতীয়, তাই তো তুমি মহান।
ভূমিতে লুটি প্রণাম করি সেই যুগনায়কে।
কুসংস্কার সরায়ে সাম্য যিনি, আনিলেন ভারতের বুকে।
অভুক্ত জনসাধারণের মুখে যিনি তুলিয়া দিলেন অন্ন।
স্পর্শ করিয়া অস্পৃশ্যের জীবন করিলেন ধন্য।
জগজ্জননী বিশ্বেশ্বরীর আশির্বাদ লয়ে সাথে,
বাঁধিলেন সবে একই সুতায়, স্নেহ আর মমতাতে।
আমাদের অন্তরে জাগ্রত হোক বিবেকানন্দের ন্যায় উদ্যম।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে হই যেন মোরা তাঁহারই মতো দুর্দম।